মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

সাম্প্রতিক কর্মকান্ড

৯৩৬ সালের পূর্ব পর্যন্ত ডিষ্ট্রিক্ট বোর্ডের সকল নির্বাচন পরোক্ষ ছিল। ১৯৩৬ সালে বেংগল লোকাল সেলফ গভর্ণমেন্ট এ্যাক্ট ১৮৮৫ সংশোধিত হল। লোকাল বোর্ড বিলুপ্ত করা হয়। এই সংশোধনে দুই তৃতীয়াংশ সদস্য নির্বাচিত এবং এক তৃতীয়াংশ সদস্য মনোনিত হতেন। মনোনীত সদস্যের মধ্যে সরকারী ও বেসরকারী সদস্যও ছিলেন। ভোটদাতাগণের বয়স ২১ বছর এবং তাকে স্থানীয় বাসিন্দা হতে হবে। তাকে ৮ আনা সেস ও ৬ আনা চৌকিদারী ট্যাক্স দিতে হতো এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হতো। মহিলাদের জন্য ভোট দেয়ার ব্যবস্থা ছিল না। এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল।

         পাকিস্তান শাসনামলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সার্বজনীন ভোটের ব্যবস্থা করা হয়। এই বিষয়ে একটি কমিটি গঠিত হয় এবং কমিটি ১৯৫৬ সালে রিপোর্ট পেশ করেন। কিন্তু এর বাস্তবায়নের পূর্বেই দেশে সামরিক শাসন প্রবর্তিত হয়।

         ১৯৫৯ সালের বেসিক ডেমোক্রেসি অর্ডার’ এর মাধ্যমে তৃতীয় বারের মতো স্থানীয় শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হয়। ডিষ্ট্রিক্ট বোর্ডের নাম হলো জেলা কাউন্সিল। এই কাউন্সিল ১৯৬২ সাল পর্যন্ত সরকারী কর্মচারী ও নিয়োগকৃত সদস্য দ্বারা পরিচালিত হতো। জেলা প্রশাসক জেলা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হতেন এবং বেসরকারী সদস্যরা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতেন। এই অর্ডারে জেলা কাউন্সিলের কর্মসূচী ব্যাপক। কিছু কাজ ছিল বাধ্যতামূলক ও কিছু কাজ ছিল ঐচ্ছিক। আবশ্যক কাজের সংখ্যা ছিল ২৮ টি এবং ঐচ্ছিক কার্যের সংখ্যা ছিল ৭০ টি। সরকারী অনুদান ছাড়াও কর, টোল, ফি ইত্যাদি ২৯ টি উৎস থেকে আয়ের মাধ্যমে কাউন্সিল তহবিল গঠন করা হতো। কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন ৫০% সরকারী অফিসার, ২৫% নিয়োগকৃত প্রতিনিধি, ২৫% চেয়ারম্যান ইউনিয়ন কাউন্সিল ও টাউন কমিটি। এই কাউন্সিল ডিষ্ট্রিক্ট বোর্ড কমিটির চাইতেও সাংগঠনিকভাবে অগনতান্ত্রিক ছিল। এর পর ১৯৬২ সালে ৫০% নির্বাচিত ও ৫০% সরকারী সদস্য করা হয়। নির্বাচনের সকল ক্ষেত্রই পরোক্ষ ছিল। সকল ক্ষেত্রেই ডিপুটি কমিশনার চেয়ারম্যান হিসাবে প্রধান ভূমিকা পালন করতেন।

         বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পূর্বের ব্যবস্থা ভেংগে দিয়ে প্রেসিডেন্ট ১৯৭২ সালে ৭ নং অধ্যাদেশ জারী করেন। এই আদেশে জেলা কাউন্সিলের নাম করণ হয় জেলা বোর্ড। ডেপুটি কমিশনার বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্য ছিলেন। জেলা প্রশাসনের নিয়োগকৃত পল্লী উন্নয়ন সহকারী পরিচালক জেলা বোর্ডের সচিবের দায়িত্ব পালন করতেন।

         ১৯৭৬ সালে স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে জেলা বোর্ডের নাম করা হয় জেলা পরিষদ। এই অধ্যাদেশে নির্বাচনের ব্যবস্থা থাকলেও অধ্যাদেশ জারী হওয়ার পর প্রকৃত কোন নির্বাচন হয়নি। সুতরাং পূর্বের নিয়মেই এই পরিষদ চলতে থাকে।

         স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান পূর্নগঠিত করার জন্য সামরিক সরকার ১৯৭৬ সালে লোকাল গভর্ণমেন্ট অধ্যাদেশ জারী করেন। ইউনিয়ন পরিষদ, থানা পরিষদ এবং জেলা পরিষদ এই তিনস্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার গঠিত হয়। পরিষদের সদস্যগণ ছিলেন নির্বাচিত, সরকারী ও মহিলা। ১ জন চেয়ারম্যান ও ১জন ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। পরিষদের কার্য্যকাল ছিল ৫ বছর। তুলনামূলকভাবে এই অধ্যাদেশ পূর্বের চাইতে গণতান্ত্রিক ছিল। কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ার কারণে অধ্যাদেশের বিধিগুলি বাস্তবায়িত হয়নি। সেজন্য জেলা পরিষদ কোন দিক থেকেই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেনি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter